Breaking News

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ভেঙে পড়েছে গাছ জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ভেঙে পড়েছে গাছ জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ

 

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের ঝোড়ো বাতাসে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গাছ ভেঙে পড়েছে। রাজধানীর অন্তত দুই শতাধিক স্থানে কোথাও গাছ ভেঙে পড়েছে, কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে আবার কোথাও গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। এছাড়া রাতভর টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জমেছে হাঁটু পানি। রাজধানীর নিচু এলাকার বাসাবাড়ি ও দোকানে ঢুকে পড়েছে পানি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ। আজ সকালে পুরান ঢাকার চাঁনখারপুল, নাজিমুদ্দিন রোড, নিমতলী, আগামাছি লেন ও বকশীবাজার, কাঁঠালবাগান, পান্থপথ, ভুতেরগলি, মিরপুর, দারুসসালাম সহ বিভিন্ন এলাকায় অলিগলি ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। 

 এদিকে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার সড়কের খানাখন্দ ও গর্তে পানি জমায় সবাইকে ওই সড়ক এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।  

সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিত্রাংয়ের প্রভাবে সন্ধ্যার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়ায় রাজধানীর অনন্তত ২০০ স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে। অধিকাংশ স্থানেই স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের লোকজন সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে নিয়েছেন। তবে এতে কোনো হাতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।  

জানা গেছে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর জিরো পয়েন্টে সচিবালয়ের দিকে একটি বড় ইউক্যালিপটাস গাছ ভেঙে পড়ে।

গাছ ভেঙে পড়ে রাস্তার অনেকটা অংশ বন্ধ হয়ে যায়।

মৎস্য ভবনের সামনে একটি লেনে যান চলাচল বিঘ্নিত রয়েছে। রাতে একটি বড় গাছ পড়ে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, নিউমার্কেট এলাকায় একটি গাছ এখনো সড়কে পড়ে আছে। সেখানে একটি লেন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে, তারা কাজ করছেন।
তিনি বলেন, সিত্রাংয়ের প্রভাবে রমনা ট্রাফিক এলাকার অন্তত ২৫ স্থানে গাছে ভেঙে পড়ে। খবর পাওয়ার পর থেকে খুব দ্রুতই স্থানীয়দের সহযোগিতায় ট্রাফিক পুলিশ সেগুলো অপসারণে কাজ শুরু করে। পরে সেখানে সিটি করপোরেশনের লোকজন যোগ হয়ে অপসারণ করে।
অন্যদিকে, রাত ১১টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রায়েরবাগ বাস স্টপেজের কাছে উত্তর রায়েরবাগে প্রবেশের মুখে বাঁশের একটি তোরণ ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সকালে সেটি অপসারণ করা হয় বলে জানিয়েছে ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগ।
এদিকে ইসিবি চত্বর, গুলশান-২ থেকে নতুন বাজার রুটে বড় গাছ পড়েছিল। সব অপসারণ করা হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কারণে দুটি স্থানে এখনো যান চলাচল বিঘ্নিত রয়েছে। উত্তরা থেকে কুড়িল ফ্লাইওভারের ঢালে পানি জমেছে। ঢাকা গেটের ওখানেই জলাবদ্ধতা আছে। সেখানে সিটি করপোরেশন লোকজন কাজ করছে।

মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মইনুল হাসান জানান, মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৪টি স্থানে গাছ পড়ার খবর পেয়েছিলাম। অধিকাংশ স্থানেই অপসারণ সম্ভব হয়েছে। তবে শান্তিনগর পুলিশ লাইনের বিপরীতে ডিটিএসের সামনে একটি বড় গাছ পড়েছে। তা এখন পর্যন্ত সরানো সম্ভব হয়নি। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া গুলিস্তানের মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামের সীমানার ভেতরে বড় একটি গাছ ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগের রামপুরা ট্রাফিক জোনে বনশ্রী ইউলুপের মুখে গাছ ভেঙে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। সার্জেন্ট শুভ কুমার দে ফোর্সসহ গাছ কেটে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ