মানিকগঞ্জ পৌরসভার নারাঙ্গাই এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ রাশেদুল ইসলাম (৪৫) মারা গেছেন। তার তিন বছরের শিশু ছেলের আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। স্ত্রীও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন নিহত রাশেদুলের বড় ভাই রসুলদী। তিনি জনান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ভাই রাশেদুলের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, ছোট ভাই রাশেদুল মানিকগঞ্জ পৌরসভার নারাঙ্গাই এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে মাংসের ব্যবসা করতেন। মঙ্গলবার ভোরে রাশেদুলের বাড়িতে দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে রাশেদুল, তাঁর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (৩০), ৩ বছরের সন্তান রিফাত ও মাংসের দোকানের কর্মচারী ফারুক হোসেন (৩৮) দগ্ধ হন। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হওয়ায় তাঁর ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজাকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর ভাইকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হলে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁর ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী ও ছেলেকেও ওই হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। ভাতিজার অবস্থা আশংকা জনক বলে তিনি জানান।
ফায়ার সার্ভিস, থানা-পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে ঝড়বৃষ্টির কারণে বাসার দরজা ও জানালা বন্ধ করে রাশেদুল ও তাঁর পরিবারের লোকজন এবং দোকানের কর্মচারী রাতে ঘুমিয়ে পড়েন।
অগ্নিদগ্ধ ফারুক হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে আমরা কক্ষের ভেতর কিছুটা বিকট গন্ধ অনুভব করি। এ সময় রাশেদুল সিগারেটে আগুন ধরানোর জন্য দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর পরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর কী ঘটেছে আর বলতে পারি না।’
মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা (লিডার) বশির আহমেদ বলেন, ওই বাড়ির লোকজন রাতের বেলা দরজা-জানালা বন্ধ করে গ্যাসের লাইন চালু রাখতে পারে। কোনো কারণে আগুন জ্বালানোর পর বদ্ধ কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ