অনলাইন ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুবলীগ জন্ম থেকেই দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেছে। শুক্রবার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যুবলীগের সকল নেতা-কর্মীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শাহাদত বরণকারী যুবলীগের সকল নেতাকর্মীকে।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার বলিষ্ঠ, গতিশীল, নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি আমাদের নিজস্ব জাতি, রাষ্ট্র ও গর্বিত পরিচয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে যুবশক্তির উদ্ভব ঘটেছিল তাকে সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ গঠন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণির নেতৃত্বে এই সংগঠনের জন্ম। জন্ম থেকেই যুবলীগ দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। জাতির পিতার নেতৃত্বে জাতি যখন শোষণমুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে নিমগ্ন তখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি ও তার গর্ভবতী স্ত্রী আরজু মণি নিহত হয়েছেন।
শুরু হয় গুপ্তহত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবাদ জানায়। চট্টগ্রামের যুবলীগ নেতা মৌলভী সৈয়দ আহমদ ও বগুড়ার আবদুল খালেক খসরু সে সময় প্রাণ দেন।জাতির পিতাকে হত্যার পর থেকে স্বৈরাচার বিরোধী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে যুবলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। '৭৫-এর পর যুবলীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লীগের ভ্যানগার্ডে পরিণত হয়।যুবলীগ নেতা নূর হোসেন, নুরুল হুদা বাবুল, ফাত্তাহসহ অনেকে স্বাধীনতা আন্দোলন ও জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকারের লড়াইয়ে জীবন দিয়েছেন।মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। যুবলীগের সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করছি।তিনি বলেন, 21 বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর 1996 সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর তরুণদের উন্নয়নের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আমরা সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছি। তরুণরা আবারও উন্নয়নের সুফল পেতে শুরু করেছে।২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। গত ১৪ বছরে দেশের প্রতিটি খাতে আমরা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করেছি। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ যুবক। যুব সমাজের রয়েছে অপার সম্ভাবনা ও সতেজ উদ্যম। ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করে সমৃদ্ধ ও সোনার বাংলাদেশ গড়তে পারে তারুণ্য। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর সময়ে আমাদের যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ, উদ্বাস্তুদের জন্য ঘর নির্মাণ, কৃষকদের ধান কাটা এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানবতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।তিনি বলেন, যুবলীগের সুবর্ণ জয়ন্তীর মধ্য দিয়ে যুব সমাজের সংগ্রামী চেতনা আরও পরিশুদ্ধ ও বেগবান হবে বলে আমি আশাবাদী। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এদেশের তরুণদের হৃদয়ে যে অদম্য শক্তি জ্বালিয়েছেন, যে প্রেরণা সঞ্চার করেছেন, যুবলীগ এদেশের তরুণদের একত্রিত করে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছে। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ি। তোলার আশা রাখি।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি।

0 মন্তব্যসমূহ